সাংহাই একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স ইনস্টিটিউট-এর একজন রিসার্চ ফেলো হু ঝিয়াং। বুধবার গ্লোবাল টাইমস-কে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোনও ইচ্ছা আদৌ চীনের নেই।

ঘ’টনাটি নিয়’ন্ত্রণরেখার চীনা অংশেই ঘটেছে। ফলে সং’ঘর্ষকালে ভারতের ২০ জন সে’নাসদস্য নি’হত হয়। এই সং’ঘাতে ভারতীয় পক্ষ থেকে পুরোপুরি উসকানি দেওয়া হয়েছিল।’

এই আন্তর্জাতিক স’ম্পর্ক বিশ্লেষক বলেন, ‘ভারত একই সময়ে চীন, পাকিস্তান ও নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বি’রোধে জড়িয়েছে। পাকিস্তান চীনের নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার।

নেপালের সঙ্গেও বেইজিং-এর ঘনিষ্ঠ স’ম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশই চীনের প্রস্তাবিত বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’

হু ঝিয়াং বলেন, ‘ভারত যদি সীমান্ত উ’ত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে তবে তারা দুইটি বা এমনকি তিনটি ফ্রন্টের সা’মরিক চা’পের মুখোমুখি হতে পারে। এটি দিল্লির সা’মরিক সক্ষ’মতার অনেক বেশি বাইরে। এটি বরং ভারতকে একটি বিপর্যয়কর পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এখনই এই পরাজয় দিল্লির জন্য বিপর্যয়কর হবে। কেননা সেখানকার উদীয়মান হিন্দু জাতীয়তাবাদ এমন একটি ব্যর্থ পরিণতি মেনে নেবে না এবং মোদি স’রকারের পতন ঘটবে।’

এই চীনা বিশ্লেষক বলেন, ‘ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের এই পরিস্থিতি ভু’লভাবে নেওয়া উচিত নয়। কেননা, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, চীন-মা’র্কিন স’ম্পর্কের অবনতিশীল পরিস্থিতি দিল্লিকে বেইজিংকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ করে দেবে। কেননা, চীন বা যুক্তরাষ্ট্র কারও জন্যই ভারত কোনও গুরুত্বপূর্ণ বি’ষয় নয়।

চীনা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, মোদি স’রকারের ভারতে মা’র্কিনপন্থী শক্তি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। কেননা চীনকে উস্কে দেওয়ার মতো মূর্খতাপূর্ণ আন্দোলন গু’রুতর পরিণতি ঘটাতে পারে।

এদিকে সোমবারের ওই র’ক্তক্ষয়ী হা’মলায় নিজেদের ২০ সে’নাকে হা’রানোর কথা স্বীকার করলেও দৃশ্যত চুপ ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ নিয়ে বি’রোধীদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে।

১৭ জুন বুধবার সকালে এক টুইটে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন? কেন তিনি লুকিয়ে আছেন? যথেষ্ট হয়েছে! কী ঘটেছে (ভারতীয় সে’নাদের প্রা’ণহা’নি) তা আমাদের জানতে হবে। আমাদের জওয়ানদের হ’ত্যা করার স্পর্ধা চীনের হয় কী করে? কোন সাহসে তারা আমাদের জমি নিয়ে নেয়?’

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীসহ বি’রোধীদলীয় অন্য নেতারাও এ ইস্যুতে মোদির বক্তব্য দাবি করেন। সমালোচনার মুখে এদিকে ক’রোনাভা’ইরাসে সং’কট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এ নিয়ে কথা বলেন মোদি। তিনি বলেন, ‘আমি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, সে’নাদের আত্মত্যাগ বিফলে যাবে না।’

ভারতীয় সে’নাদের প্রা’ণহা’নির ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মোদির নীরবতার ঘ’টনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হলেও ভিন্ন যুক্তি দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, চীনা সে’নাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের কথা স্বীকার করলে মোদি স’রকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা তো ছিলই। এর সঙ্গে রয়েছে চীন-ভারত বাণিজ্য স’ম্পর্ক ক্ষ’তিগ্রস্ত হওয়ার আ’শঙ্কা। উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ছিল চীন।

জেএনইউ-এর সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিকস, অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ডিসআর্মামেন্ট অ্যাট দ্য স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর সহকারী অধ্যাপক হ্যাপিমন জ্যাকব।

হাফিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, ‘যে বিজেপি স’রকার জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারার গর্বে সারাক্ষণ বুক চা’পড়ে বেড়ায়, চীনা সে’নারা ভারতে প্রবেশ করার কথা স্বীকারের মধ্য দিয়ে তাদের ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।’

হ্যাপিমন জ্যাকব মনে করেন, বেইজিং যদি নিজে থেকে সে’না প্রত্যাহার না করে, তবে ভারতের পক্ষে সীমান্ত থেকে চীনা বাহিনীকে হটানো সহজ হবে না।’

এমন পরিস্থিতিতে ভারতে দানা বাঁধছে চীনা পণ্য বর্জনের ডাক। দেশটির বিভিন্ন স্থানে চীনের পতাকা এবং দেশটির প্রে’সিডেন্ট শি জিনপিং-এর কুশপুতুল জ্বা’লিয়ে ক্ষো’ভ প্রকাশ করছে বি’ক্ষো’ভকারীরা।

কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স-এর মহাস’চিব প্রবীণ খানদেলওয়াল বলেন, ‘আমি হয়তো সী’মান্তে গিয়ে চীনাদের সঙ্গে লড়াই করতে পারবো না। তবে নিজের জায়গা থেকে আমি যেটা করতে পারি সেটা হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে এবং সারাদেশে ব্যবসায়ীদের পর্যায়ে চীনা পণ্য বর্জন।’

সূত্র: পিপলস টাইমস, রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here