আমরা সবাইকে প্রস্তুত করে রাজপাশায় পৌছাই রাত ১১:৩০ এ। তখন পর্যন্ত লা’শের গোসল হয়নি। কেউ কাছেও আসেনি। লা’শটি ঘরের বাইরে আনার মতোও কেউ ছিলো না। হতভাগ্যের ঘরে তখন তার স্ত্রী, এক কন্যা, আরেক পুত্র ছিলো। অন্য আরেক ছেলে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছে।

সে বাড়িতে পৌছলেই মৃ’তব্যক্তির স্ত্রী এবং স’ন্তানেরা আমাদের জানান তার কোভিডের কোন লক্ষণ ছিলো না। কিন্তু লা’শটি গোসলের জন্য বাইরে নিয়ে আসার জন্য হাতটি পর্যন্ত বাড়ালোনা কেউ। লা’শ বাইরে আনলো ওই মেডিকেল টিমের তুহিন, আসাসসহ কয়েকজন, যাদের আমরা পিপিই পড়িয়ে দেই।

গোসলের সময় আড়াল দেয়ার জন্য একটি বিছানার চাদর থেকে শুরু করে মাটিতে নামানোর জন্য একটি গামছা পর্যন্ত ব্যাবস্থা করতে অনেকবার চেচামেচি করা লেগেছে আমাদের। রাত ১টার দিকে গোসল শেষ করে এসিল্যান্ড তৌহিদের ইমামতিতে আমি, ইউএইচএফপিও জহিরুল ভাই, ধা’ওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টুলু সাহেবসহ মেডিকেল টিমের সদস্যসহ কয়েকজন আমরা জানাজা সম্পন্ন করি। লা’শ গোসল করানো, দাফন করানোর জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। আপন ভাইদেরও ফোন বন্ধ।

কাদামাটির উঠান, জঙ্গল ঠেলে রাত দেড়টার দিকে মৃ’ত সোহরাব হাওলাদার সাহেবকে নিয়ে যাই তার ঘরের কাছে। সেখানে গিয়ে তার একভাইকে পাই। যদিও কবরে কিন্তু সেই গোরখোদক মনিরসহ আর দুইজন নামলো যারা আত্মীয় না। রাত দুটোয় বাড়ি ফিরলাম, মনে হলো শ’রীর অসম্ভব ক্লান্ত ঘুমিয়ে পড়বো। এখন পৌনে সাতটা বাজে ঘুম আসছে না।

লা’শ থেকে ভাই’রাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে বলে ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে। একদম স্যাম্পল নেয়া বা পোস্টমর্টেম এর সময় কেউ এক্সপোজ হতে পারে। লা’শের চেয়ে একজন জীবিত কোভিড প্যাশেন্ট সং’ক্র’মণ ছড়াবে বেশি, যিনি রাস্তা ঘাট বাজারে থাকতে পারেন। লা’শের প্রতি এই ভ’য়টা যদি রাস্তায় থাকতো হয়তো সং’ক্র’মণ আরো কিছু কম হতো। কোন হতভাগ্যের যেন এরকম না হয়।

ধ’ন্যবাদ ইউএইচএফপিও ডাঃ জহিরুল ভাই, ছোট ভাই এসিল্যান্ড তৌহিদ, ধা’ওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু সাহেব। ওই রাতে এরকম ভাবে একজন জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব না নিলে লা’শটি আজও পরে থাকতো। এখনো পরেই থাকতো ওই ঘরেই। পু’লিশ বাহিনীকে ধ’ন্যবাদ, মেডিকেল টিমের সকল সদস্যকে ধ’ন্যবাদ।

যে ব্যক্তিটি মা’রা গেলেন তিনি কিন্তু কনফার্মড কোভিড পেশেন্ট না। স’ন্দেহেই এই অবস্থা। আমাদের হয়তো এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে আরও। তবে আশা করি এরকমটি আর না ঘটুক। সবাই ভালো থাকুক। আবার ভোর হোক।

নির্ঘুম রাতের ভোর না, পরিতৃ’প্ত ঘুমের স্নিগ্ধ ভোর হোক।” ‘এতো অস্বস্তি ঘুমে আর খুব কম সময়েই হয়েছে। রাত দুটোয় বাসায় ফিরেছি এখন ৬ টা বাজে শুধু এপাশ ওপাশই করলাম। কেন? আমার তো এরকম হয় না। ঘুমে তো কম্প্রোমাইজ নেই। আবেগের তো জায়গা নেই।’

ক’রোনা উপসর্গ নিয়ে মা’রা যাওয়া এক ব্যক্তির লা’শ দাফন নিয়ে নিজের অ’ভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজে’লার ইউএনও নাজমুল আলম নবীন। আজ সকালে ফেসবুকে দেয়া তার স্ট্যাটাসটি এখানে তুলে ধরা হলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here