স’রকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

দীর্ঘ ৬৬ দিনের ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

এদিকে নোভেল ক’রোনা ভাই’রাসে মঙ্গলবার (০২ জুন) আ’ক্রান্ত হয়েছে সর্বোচ্চ সংখ্যক। সর্বমোট আ’ক্রান্ত ৫২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর আাগে গত রোববার (৩১ মে) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সং’ক্র’মণ ও সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃ’ত্যু হয়েছে।

২৪ ঘণ্টার হিসেবে ওই দিন ২ হাজার ৫৪৫ জন রো’গী শনাক্ত এবং ৪০ জনের মৃ’ত্যুর তথ্য জানানো হয়। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় আ’ক্রান্তের তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো সাত নম্বরে। এর পর দিন তুলনামূলক কম হলেও এক দিন পরই আবার আ’ক্রান্ত ও মৃ’ত্যু লফিয়ে বেড়েছে।

সোমবার ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় আ’ক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৩৮১ জন আর মৃ’ত্যু হয়েছে ২২ জনের। আর মঙ্গলবার (০২ জুন) আ’ক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৯১১ জন। মৃ’ত্যু ৩৭ জনের। এখন পর্যন্ত দেশে মোট আ’ক্রান্ত ৫২ হাজার ৪৪৫ জন এবং মৃ’ত্যু হয়েছে ৭০৯ জনের।

স’রকারের নীতিনির্ধারকরা জানান, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শ্রমজীবী, গরিব, খেটে খাওয়া, স্বল্প আয়ের মানুষের জীবিকা এবং দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে সাধারণ ছুটি ও লকডাউন তুলে দেওয়া হয়েছে। ]

তবে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে ও ভ’য়ঙ্কর পর্যায়ে চলে যাওয়ার আ’শঙ্কা তৈরি হলে অন্য কোনো উপায় থাকবে না। বা’ধ্য হয়ে পুনরায় সাধারণ ছুটি ও লকডাউন দেওয়া হবে। স’রকারের উচ্চ পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্তই রয়েছে।

তারা জানান, এই সময়ে ক’রোনা সং’ক্র’মণের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য পরীক্ষা আরও বাড়ানো হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে ওই নীতিনির্ধারকরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স’রকারের একজন মন্ত্রী বলেন, ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগামী এক সপ্তাহ ক’ঠোরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। সং’ক্র’মণের এই মাত্রা আরও বাড়লে পুনরায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা ও লকডাউন দিয়ে তা কার্যকর করতে ক’ঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার (০১ জুন) সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স’রকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, আমাদের অসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয় এবং তা যদি জনস্বার্থের বিপরীতে চলে যায়, তাহলে স’রকারকে বা’ধ্য হয়ে আবারো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও ক’রোনা আ’ক্রান্তের হার সর্বোচ্চ পার্যায়ে রয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী সেখানে ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছে ২ লাখের বেশি মানুষ।

মা’রা গেছেন ৫ হাজার ৬২৮ জন। কয়েকদিন ধরেই সেখানে রেকর্ড সংখ্যক আ’ক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। আ’ক্রান্তের দিক থেকে ভারত বিশ্বের সপ্তম স্থানে চলে এসেছে। সে দেশেও লকডাউন শিথিল করা হয়েছে।

ইউরোপসহ বিশ্বের যেসব দেশে সং’ক্র’মণ ও মৃ’ত্যু ব্যাপক আকার ধারণ করেছিলো, সেসব দেশে সং’ক্র’মণ কমতে শুরু করেছে এবং লকডাউন শিথিল বা তুলে দেওয়া হচ্ছে। আবার এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বা তৃতীয় আ’ঘাত আসার ব্যাপারেও বিশেষজ্ঞরা আ’শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

বৈশ্বিক ম’হামা’রির ক্ষেত্রে অতীতে এ ধরণের ঘটনার নজির আছে। সব মিলিয়ে সামনের দিনগুলোকে গভীর পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে স’রকারের নীতিনির্ধারকরা জানান।

এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একটা চ’রম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে। এই সময়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে। এর পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এমন নয়। ১৫ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জনগণ ও দেশের কথা চিন্তা করে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here