আগামীকাল সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। ৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর বাংলাদেশের মু’সলিম সম্প্রদায় কাল ঈদ উদযাপন করবেন।

শনিবার দেশের কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে সোমবার উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর।

ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ম স’চিব মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর ধর্ম স’চিব জানান, ‘দেশের কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে সোমবার উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর।’

বায়তুল মোকাররমে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বাদ মাগরিব এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন আজ সকালে বাসস’কে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ২৯ রমজানে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

কিন্তু এদিন চাঁদ দেখা না গেলে রোজা ৩০টি পালন করতে হয় এবং ৩০ রোজার পরদিন ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়। এজন্য আজ আর চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের প্রয়োজন হবে না বলে তিনি জানান।

অনিশ্চিত ভবি’ষ্যতের আ’শঙ্কার মধ্যেই আসছে এবারের ঈদ। মু’সলিম সম্প্রদা’য়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছাস থাকার কথা তা এবার ম্লান করে দিয়েছে ম’হামা’রী ক’রোনাভা’ইরাসে।

ক’রোনা মো’কাবিলায় ও সং’ক্র’মণ বিস্তার রোধে স’রকারের নির্দেশনায় এবার খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ঈদ জামাত হবে মসজিদের ভেতরে শা’রীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। হচ্ছে না শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতও। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামিক ফাউেন্ডশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়।

এ জামাতের ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ কারী কাজী মাসুদুর রহমান।

দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। এ জামাতের ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী।

তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতের ইমামতি করবেন পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক।

সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ জামাত। এ জামাতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম।

পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান।

এই ৫টি জামাতে কোনও ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল্লাাহ।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, এবারের ঈদ জামাত আয়োজনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বাসস’কে জানান, এবারের ঈদে ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে খোলা মাঠে ঈদ জামাত আয়োজনের কোনো উদ্যোগ থাকছে না।

তবে স’রকারের নির্দেশনা মেনে মসজিদগুলোতে ঈদ জামাত আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন, ডিএনসিসি আওতাধীন এলাকায় খোলা মাঠে কোনো ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। মেয়র আতিকুল ইসলামও নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এদিকে মসজিদের ওযুখানা ব্যবহার না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসস্থান থেকে ওযু করে মসজিদে আসাসহ ১৪টি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

এবার খোলা স্থানের পরিবর্তে কাছের মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতে শা’রীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

বর্তমান ক’রোনা পরিস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাসায় যাতায়াত না করার পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে ঘোরাঘুরি না করে নিজ ঘরে ঈদ উদযাপন করতেও বলা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪টি নির্দেশনার কথা জানায় ডিএমপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here