প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি হাদিসের আলাকে বাস্তব কিছু ভু’ল ভ্রান্তি তুলে ধ’রেছে, যা আমাদের মা-বোনদের মধ্যে পাওয়া যায়।

আর সে ভু’ল ভ্রান্তির কারণে তারা জাহান্নামে যাওয়ার রাস্তা সহজ করে নেয়।

আজকের সামাজে আমাদের মা-বোনেরা অনেকেই রয়েছেন, যারা দ্বীন দুনিয়ার ক্ষেত্রে মহৎ এবং শ্রেষ্ঠ। তারা অনুগত, নেককার, রোজাদার, পরহেজগার।

আর এই সব মহীয়সী নারীদের ব্যাপারে কোরআনে বলা হয়েছে বিভিন্ন পুরস্কারের কথা। শ্রেষ্ঠ মহীয়সী নারী হজরত মরিয়ম (আ.)-কে নিয়েও পবিত্র কোরআনে একটি সূরা নাজিল হয়েছে।

কিন্তু তারপরও নারীদের বিভিন্ন ভু’ল-ভ্রান্তির কারণে নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, নিরানব্বই জন নারীর মধ্যে থেকে একজন নারী জান্নাতে যাবে আর বাকি সবাই জাহান্নামে যাবে।

অপরদিকে বুখারী ও মু’সলিম শরিফের আরেকটি হাদিসে, উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়ালাম, দেখলাম যারা তাতে প্রবেশ করেছে তারা অধিকাংশ ছিল দুনিয়াতে দরি’দ্র ও অসহায়। আর ধনী ও প্র’ভাবশালীদের আ’টকে দেয়া হয়েছে।

তবে তাদের মধ্যে যাদের জাহান্নামে যাওয়ার ফয়সালা হয়ে গেছে তাদের কথা আলদা। আর আমি জাহান্নামের প্রবেশ দরজায় দাঁড়ালাম দেখলাম যারা প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই নারী।

এ হাদিস মোবারক পাঠ করে মানুষ অনেক পেরেশান হয়ে যান। বিশেষ করে নারী সমাজ। এটা যেহেতু নবী করিম (সা.) এর বাণী।

তাই চিন্তা হওয়ারই কথা এবং মনে প্রশ্ন জাগারই কথা যে, নারীরা এত বেশি পরিমাণে কেন জাহান্নামে যাবে?

সে প্রশ্নটি রাসূল (সা.) যখন জীবিত ছিলেন, তখন একজন নারী করেছিলেন। মু’সলিম শরিফের হাদিসে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমা’র (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছে, হে নারীরা!

তোম’রা দান-সদকা করো। বেশি বেশি করে আল্লাহর কাছে ক্ষ’মা প্রার্থনা করো। কেননা আমি জাহান্নামে তোমাদের অধিকহারে দেখেছি।

এ কথা শোনার পর উপস্থিত নারীদের মধ্যে থেকে একজন নারী, যার নাম ছিল জাজলা। সে প্রশ্ন করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের এই অবস্থা কেন?

কেন জাহান্নামে আম’রা বেশি সংখ্যায় যাবো? রাসূলুলাহ (সা.) বললেন, কারণ তোম’রা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ ও বেশি বেশি অভিশাপ দাও।

বলতে খা’রাপ শোনা গেলেও, আ’সলে আজ আমাদের সমাজে নারীদের বাস্তব চিত্র অনেকটা এরকমই। যা রাসূল (সা.) বলে গিয়েছেন চৌদ্দশত বছর পূর্বে।

দাম্পত্য জীবনে এমন অনেক নারীকে দেখা যায়, যারা স্বামীর সামান্য একটু ভু’ল হলেই বিগত জীবনে স্বামীর স’ঙ্গে যে সুখের সংসার করেছে, ভালোবাসায় প্রতিটি মু’হূর্ত কাটিয়েছে তা বেমালুম হয়ে যায়।

তার অবদানকে মু’হূর্তে অস্বী’কার করে স্বার্মীকে অকৃতজ্ঞের স’ঙ্গে বলে, তুমি আমা’র জন্য কি করেছো? তোমা’র ঘরে আসার পর আমি কিছুই পেলাম না। তুমি আমা’র জীবনটা বরবাদ করে দিয়েছে ইত্যাদি।

নারীরা সামান্য কারণেই আবেগী হয়ে যায়। তখন তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফে’লে , এজন্য রাসূল (সা.) নারীদের স’ঙ্গে সর্বদা সৎ আচরণের কথা বলেছেন।

তাদের স’ঙ্গে উ’ত্তেজনা পরিহার করে নম্র ভাষায় কথা বলতে বলেছেন। একইভাবে নারীদেরকেও বলেছেন, স্বার্মীর প্রতি অনুগত হওয়ার জন্য। নারীদের ছোট করা বা তাদের অবমূল্যায়ন তার উদ্দেশ্য নয়। বরং মা-বোনদেরকে জাহান্নামের আ’গুন থেকে বাঁ’চানো জন্য তিনি এসব বলেছেন।

চলুন তবে জে’নে নেয়া যাক নারীরা যে কারণগুলোর কারণে জাহান্নামে যাবে সে স’স্পর্কে-

(১) নারীদের মধ্যে ফজরের নামাজ কাজা করাটা খুব বেশি দেখা যায়। এমনকি অনেক দ্বীনদার নামাজি নারীরাও ফজরের নামাজ কাযা করে ফে’লে ।

(২) বেশিরভাগ নারীই জাকাত দেয়ার ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। খবর নিয়ে দেখা যায়, একজনের আলমা’রি ভর্তি স্বর্ণ এবং রূপার গয়না আর জাকাত দিতে বললে তারা বলে আমা’র কাছে নগদ টাকা নেই।

হে বোন! জে’নে রাখু’ন এই শখের গয়না আপনার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। এটি আপনার জাহান্নামে যাওয়ায় কারণ হতে পারে। তাই প্রয়োজনে গয়না বিক্রি করে হলেও জাকাত দিয়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

(৩) যেসব নারীর ও’পর জাকাত ফরজ হয়, তাদের জন্য কোরবানি করাও ওয়াজিব হয়। কিন্তু আম’রা একশতর মধ্যে একজনকেও খুঁজে পাই না।

যারা নিজে’র কাছে সম্পদ থাকা সত্বেও নিজে’র টাকা-পয়সা খরচ করে পশু কিনে কোরবানি করেন। অধিকাংশ নারীরা স্বামীর ও’পর নির্ভর করে থাকে।

নিজে’র ও’পর কোরবানি ওয়াজিব তা জে’নেও তারা এসব ব্যাপারে খবর রাখে না।

(৪) অনেক নারীর আরেকটি মা’রাত্মক ভু’ল হলো যে, গোসল ফরজ হওয়ার পরেও তারা নাপাক অবস্থায় চলাফেরা করে। নানান কারণে গোসল ক’রতে দেরি করে।

এমনটি একেবারে করা উচিত নয়। পাক পবিত্রতা ইমানের অ’ঙ্গ।

(৫) অনেক নারীরা নেইলপলিশ লাগিয়ে থাকেন, অথচ নেইলপলিশ লা’গানোর ফলে ওজু হয় না। এ নেলপলিশ তুলতেও সময় লাগে।

তাই অনেকে এই নেলপলিশের কারনে নামাজ ছেড়ে দেয়। আবার অনেকে নেইলপলিশ না তুলেই ওজু করে নামাজ আদায় করে। উভ’য়ই ক্ষ’তিকর।

ফলে সে মূলত ওজু ছাড়া নামাজ পড়ল। কারণ যতক্ষণ নেইলপলিশ না উঠাবে, ততক্ষণ ওজু হবে না। আর ওজু না হলে নামাজ হবে না।

(৬) অধিকাংশ নারী পর্দা করার ব্যাপারে উদাসীন যা ভাষায় প্র’কাশ করা অসম্ভব। কোনা বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে তা ভালোভাবে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়।

বিশেষ করে আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে ৯৫ ভাগ মু’সলমানদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বেপর্দাগিরি আরো বেড়ে যায়।

(৭) দুইজন নারী যখন মিলিত হন তখন তাদের আলোনার বি’ষয়বস্তু হয় তৃতীয়জনের গীবত করা। আর অধিকাংশ নারীদের স্বভাবই এমন যে, তারা কয়েকজন একত্র হলে কথা না বলে থাকতে পারে না।

আর কথার বি’ষয়বস্তু হয়ে থাকে গীবত অর্থাৎ পরনি’ন্দা করা। আর গীবত ক’রতে ক’রতে অনেক নারী জাহান্নামের দরজায় পৌঁছে যায়।

এক বাদশাহর ঘ’টনা, তিনি ঘো’ষণা দিলেন যদি কেউ চমৎকার করে মিথ্যা বলতে পারে তাকে পুরস্কার দেয়া হবে। যে যত মনের মাধুরী মিশিয়ে মিথ্যা কথা বলতে পারবে তাকে শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার দেয়া হবে।

তখন সবাই মনের মাধুরী মিশিয়ে মিথ্যা গল্প বলতে আরম্ভ করল। অবশেষে একজন বলল আমি এক জায়গায় অনেক নারীকে বসে থাকতে দেখলাম কিন্তু সেখানে সবাই চুপ’চা’প তারা কেউ কারো স’ঙ্গে কথা বলছে না।

তখন বাদশাহ উচ্চ স্বরে হেঁসে উঠলেন এবং বললেন, যত মিথ্যা গল্প বলা হয়েছে তার মধ্যে এই গল্পটি সর্বশ্রেষ্ঠ। কেননা নারীরা চুপ’চা’প এক জায়গায় কখনই বসে থাকে না।

তারা অবশ্যই একে অপরের বি’রুদ্ধে, স্বামীর বি’রুদ্ধে, ননদের বি’রুদ্ধে, শাশুড়ির বি’রুদ্ধে অথবা নিজে’র পূত্রবধূর বি’রুদ্ধে গীবত করে শিকায়াত ক’রতেই থাকে।

আল্লাহ আমাদের মা-বোনদের গীবতের শিকায়াত থেকে র’ক্ষা করুন । তার পরিবর্তে ধৈর্যধারণ করুন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দেবে।

(৮) অধিকাংশ নারীরা খুবই কৃপণ হয়ে থাকে। দান-সদকা ক’রতে খুবই কৃপণতা করে থাকে। যদি নারীরা বেশি বেশি সদকা করে তাহলে আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামের আ’গুন থেকে বাঁচিয়ে দেবেন।

কোনো নারী যদি ভু’লক্রমে কোনো অন্যায় করে ফে’লে তাহলে ভু’ল স্বী’কার ক’রতেও লজ্জা পায়, দেরি করে। অথচ দুনিয়ায় ক্ষ’মা চাওয়াটা খুব সহজ। কিন্তু কেয়ামতের দিন এর জবাব দেয়াটা খুব ক’ষ্টকর।

(৯) এছাড়া নারী রাগের মাথায় অনেক কুফুরি কালাম উচ্চারণ করে। এমন কথা বলে দেয় যার ফলে মানুষ ঈমানহারা হয়ে যায়।

কুফুরি কালামের মধ্যে স’বচেয়ে বড় কুফুরি হলো স্বামীর বি’রুদ্ধে নারীর মিথ্যা অ’ভিযোগ। তেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালার বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ করা আরম্ভ করে তারা।

যেমন- বলে, আল্লাহ আমা’র দোয়া শুনেন না। এখন আর আল্লাহর কাছে দোয়াও করি না। একদিন একজন বৃ’দ্ধ নারীর কাছ থেকে জা’না গেল, সে নামাজ পড়ে না। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো সে কেন নামাজ পড়ে না? সেই বৃ’দ্ধা বললেন, কি করব?

আল্লাহ তায়ালা আমাকে সবসময় রো’গ-ব্যাধি দেয়। আমাকে খা’রাপ রাখে। তাই রাগ করে আমি নামাজ পড়ি না।

(১০) নারী সমাজে’র আরেকটি বড় ভু’ল হলো তাদের কখনও যদি বলা হয়, এটি অন্য ধ’র্মাবলম্বীর সংস্কৃতি তখন তারা সেটি বেশি করে পা’লন করে। কিন্তু যদি বলা হয়, এটি নবী করিম (সা.) এর সুন্নত তখন তারা সে দিকে ফি’রেও তাকায় না।

(১১) নারীদের আরো একটি বি’ষয় হলো অবহেলা। তা হলো, প্রয়োজনে তারা স্বামীর কাছ থেকে টাকা নেয়। কিন্তু তার স্বামী কোথা থেকে টাকা আনছে, সেদিকে খবরদারি রাখে না।

স্বামী কী চু’রি করে আনছে নাকি ঘুষের টাকা আনছে, সে ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্য’থা নেই। অথচ এটাও জাহান্নামে যাওয়ার একটি কারণ।

(১২) আল্লাহ তায়ালা কোনো নারীকে যদি ভালো ঘরে জ’ন্ম দেন ও পিতা যদি ধনী হন এবং তার চেহারা সুন্দর হয়, তখন সে এতটাই বেপরোয়া ও অহংকারী হয়ে উঠে যে, তার সামনে অন্য কোনো নারীর সুনাম করলে সে বরদাস ক’রতে পারে না।

আর অহংকার একজন নারীকে জাহান্নামে পৌঁছে দেয়ার জন্যই যথেষ্ট। মাটির মানুষ মাটির স’ঙ্গে মিশে যাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আমি তোদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি আর এই মাটিতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাবো।

অতঃপর এই মাটি থেকে তুলে আনবো। তাই এ সৌন্দর্যের অহংকার কোনো কাজে আসবে না।

(১৩) অধিকাংশ নারী কুধারনার রো’গী হয়ে থাকেন। আর সামান্য সন্দে’হ থেকে কুধারনা, আর সে কুধারনা থেকে মিথ্যা অ’পবাদের মতো কবিরা গুনাহের লিপ্ত হয়ে যান। যা জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মতো একটি কারণ।

(১৪) আজকাল যে বি’ষয়টি স’বচেয়ে বেশি দেখা যায়, তা হলো কোনো কারণে স্বামীর স’ঙ্গে ঝগড়া হলে স্বামীকে এমনভাবে রাগান্বিত করে স্বামীকে এমন এমন কথা বলে যাতে স্বামীও প্র’কাশ্যে কিংবা গো’পনে এমন বাক্য বলে দেয় যাতে তালাক হয়ে যায়।

আর তালাক হয়ে যাওয়ার পরেও সে স্বামীর স’ঙ্গে সংসার ক’রতে থাকে। যা ইসলামে অত্যন্ত মা’রাত্মক হারাম কাজ। আল্লাহ আমাদের বদমেজাজে’র হাত থেকে র’ক্ষা করুন।

(১৫) তাছাড়া অধিকাংশ নারীর নেক আমলই দেখা যায় শুধুমাত্র লোক দেখানো। কোনো পুত্রবধূ আমল করে শাশুড়ির ভ’য় কিংবা লোকে কী বলবে এ ভয়ে আমল করে। যেখানে আল্লাহর ভ’য় থাকে না। আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত থাকে না। আর যার ফলে তার আমলের খাতা শুন্য হয়ে যায়।

নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, নিরানব্বই জন নারীর মধ্যে একজন নারী শুধু জান্নাতে যাবে আর বাকি সবাই জাহান্নামে যাবে। এ হাদিসের আলোকে যা আলোনা করা হলো তা নারীদের জন্য খুবই জ’রুরি।

আশা করি সব নারী উক্ত বি’ষয়গুলো গু’রুত্ব ের স’ঙ্গে গ্রহণ করবেন। আল্লাহ আমাদের সৎ পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here