অবশেষে সম্পন্ন হলো যুবলীগের বহু আকাঙ্ক্ষিত সপ্তম কংগ্রেস। শীর্ষ নেতৃত্বের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ভাবমূর্তির সংকটে পড়া সংগঠনটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। ক্লিন ইমেজের অধিকারী শেখ পরশ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। শিক্ষকতা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন এতদিন।

জানা গেছে, ভাবমূর্তির সঙ্কটে থাকা যুবলীগকে পুনর্গঠনে ফুপু শেখ হাসিনার নির্দেশে শেখ পরশ রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তবে, প্রথমদিকে তিনি অনেকটাই দ্বিধায় ছিলেন সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও অনেকটা অভিমান থেকেই কিনা রাজনীতিতে সক্রিয় হননি শেখ পরশ। ছোটবেলাতেই রাজনৈতিক কারণে বাবা-মা’কে হারিয়েছিলেন তিনি। যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে তাকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা শেখ পরশের মনে বড় ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। এমনকি ছোটভাই তাপসের নির্বাচনী প্রচারেও তাকে খুব একটা নামতে দেখা যায়নি।

সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জন ওঠে। সম্মেলন প্রস্তুতির জন্য যুবলীগের যে কমিটি হয়েছে তাতে আকস্মিকভাবে পরশের যুক্ত হওয়া দেখে গুঞ্জনের পালে আরও হাওয়া লাগে।

সম্মেলন প্রস্তুতি দেখতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার যখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়েছিলেন তখন তার সঙ্গে শেখ পরশ ছিলেন। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির উত্তরাধিকারীকে নেতৃত্বে পাওয়ার অধিকার যুবলীগের আছে। এরপর, শেখ পরশের নেতৃত্বে আসার বিষয়টা ওপেন সিক্রেট হয়ে যায়।

পরশের ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তাদের চাচা শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনিও যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন।

পঁচাত্তর ট্রাজেডিতে বাবা-মাকে হারানো পরশ ধানমণ্ডি সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেয়ার পর দেশে ফিরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে আসছিলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here